ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo চুনারুঘাট উপজেলার চন্ডিছড়া চা বাগানে ভার্চুয়ালি ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo হবিগঞ্জে দুপক্ষের সংঘর্ষে ২ জন নিহত,আহত ৪০ Logo শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিজস্ব কোনো ভবন নেই দাপ্তরিক কাজ হচ্ছে ভাড়া বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে। Logo শায়েস্তাগঞ্জে ভয়াবহ যানজট-দেখার যেন কেউ নেই Logo মাধবপুর পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি Logo চুনারুঘাটে খোয়াই নদীতে গোসল করতে গিয়ে বৃদ্ধ নিখোঁজ Logo শায়েস্তাগঞ্জে বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলর আব্দুল আহাদকে প্রেসক্লাবের সংবর্ধনা Logo ‘বাজেট বুঝি না, শুধু দুবেলা খাবার চাই’ Logo ‘চা শ্রমিকের কোনো পরিবর্তন নেই’প্রতিদিন ১৮৭ টাকা মজুরি নিয়ে দুর্দশার জীবন কাটাছে Logo মহান মে দিবস আজ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন

শায়েস্তাগঞ্জ রেলের টিকেট যেন সোনার হরিণ, জেলার ২৩ লাখ মানুষের জন্য টিকেট বরাদ্দ মাত্র ২৬০টি

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন। যেখানে প্রতিদিন ভীড় করেন জেলার শত শত যাত্রী। এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের যাত্রীরাই বেশি। নিরাপদ আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ী ভ্রমণের সাধারণ মানুষের প্রথম পছন্দ রেল। তবে নিয়মিত ট্রেনের যাতায়াত থাকলেও যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না টিকেট। বর্তমান রেলের টিকিট যেন সোনার হরিণ। যে কয়েকটি টিকিট বরাদ্দ রয়েছে এর বেশিরভাগই চলে যায় কালোবাজারিদের হাতে। এই জংশনে পর্যাপ্ত পরিমানে টিকিট না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। মাধবপুর ও শায়েস্তাগঞ্জে শিল্পাঞ্চলের প্রতিদিন কাজ করেন দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েক লাখ শ্রমিক। তাদের যাতায়াত এর অন্যতম ভরসা এই জংশন। অথচ টিকিটের সংখ্যা এক দশকেও বাড়েনি একটিও। নানা অজুহাতে কমিয়ে দেয়া হয়েছে আসন সংখ্যা।
রেলওয়ে সূত্র বলছে, জেলার সাড়ে ২৩ লাখ মানুষের জন্য এই জংশনে সাধারণ টিকিটের সংখ্যা মাত্র ২৬০ টি। বর্তমানে সিলেট-ঢাকা লাইনে চলাচলকারী কালনী এক্সপ্রেসে রেজিস্ট্রেশনে টিকিট রয়েছে শোভন ৩৫টি, এসি চেয়ার ১৫টি, এসি কেবিন ৩। জয়ন্ত্রিকা এক্সেেপ্রসে চেয়ার ৭, এসি চেয়ার ৪টি, পারাবত এক্সপ্রেসে চেয়ার ৩০, উপবনে ৪৫ চেয়ার ও ৫টি এসি চেয়ার। অন্যদিকে, সিলেট-চট্টগ্রাম লাইনের পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ৩৫টি শোভন, ৪টি এসি চেয়ার ও ৩টি কেবিন। আর উদয়ন এক্সপ্রেসে শুধু ৪০টি চেয়ার রয়েছে। সিলেট-আখাউড়া, সিলেট-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ৬টি লোকাল ট্রেনের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে পাঁচটি। সবশেষ বন্ধ হয়েছে সুরমা মেইলের একটি ট্রেন । বর্তমানে চালু থাকা আরেকটি সুরমা মেইল চলছে এক সপ্তাহ পর পর। আর ডেমু ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে বহু বছর আগে।
অভিযোগ রয়েছে, শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে ২৬০টি টিকিট থাকলেও যার বেশিরভাগই চলে যায় কালোবাজারির হাতে। রাত ১২টার পরই নামে-বেনামে টিকিট সংগ্রহ করে সিন্ডিকেট চক্র। সকাল থেকেই দাম বাড়িয়ে সাধারণ যাত্রীদের কাছে এসব টিকিট বিক্রি করে চক্রটি।
সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, ‘‘কোনভাবে টিকিটের সিন্ডিকেট থামানো যাচ্ছে না। ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতে টিকিটের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যারা সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত, তারা খুব সহজেই টিকিট পেয়ে যায়। বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ঢাকাগামী যাত্রীদের। বেশির ভাগ মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করেন। সময় মত টিকিট না পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে’। টিকিটের বরাদ্দ বাড়ানের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানান সাধারণ যাত্রীরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:০১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
১২৫ বার পড়া হয়েছে

শায়েস্তাগঞ্জ রেলের টিকেট যেন সোনার হরিণ, জেলার ২৩ লাখ মানুষের জন্য টিকেট বরাদ্দ মাত্র ২৬০টি

আপডেট সময় ০৫:০১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন। যেখানে প্রতিদিন ভীড় করেন জেলার শত শত যাত্রী। এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের যাত্রীরাই বেশি। নিরাপদ আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ী ভ্রমণের সাধারণ মানুষের প্রথম পছন্দ রেল। তবে নিয়মিত ট্রেনের যাতায়াত থাকলেও যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না টিকেট। বর্তমান রেলের টিকিট যেন সোনার হরিণ। যে কয়েকটি টিকিট বরাদ্দ রয়েছে এর বেশিরভাগই চলে যায় কালোবাজারিদের হাতে। এই জংশনে পর্যাপ্ত পরিমানে টিকিট না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। মাধবপুর ও শায়েস্তাগঞ্জে শিল্পাঞ্চলের প্রতিদিন কাজ করেন দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েক লাখ শ্রমিক। তাদের যাতায়াত এর অন্যতম ভরসা এই জংশন। অথচ টিকিটের সংখ্যা এক দশকেও বাড়েনি একটিও। নানা অজুহাতে কমিয়ে দেয়া হয়েছে আসন সংখ্যা।
রেলওয়ে সূত্র বলছে, জেলার সাড়ে ২৩ লাখ মানুষের জন্য এই জংশনে সাধারণ টিকিটের সংখ্যা মাত্র ২৬০ টি। বর্তমানে সিলেট-ঢাকা লাইনে চলাচলকারী কালনী এক্সপ্রেসে রেজিস্ট্রেশনে টিকিট রয়েছে শোভন ৩৫টি, এসি চেয়ার ১৫টি, এসি কেবিন ৩। জয়ন্ত্রিকা এক্সেেপ্রসে চেয়ার ৭, এসি চেয়ার ৪টি, পারাবত এক্সপ্রেসে চেয়ার ৩০, উপবনে ৪৫ চেয়ার ও ৫টি এসি চেয়ার। অন্যদিকে, সিলেট-চট্টগ্রাম লাইনের পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ৩৫টি শোভন, ৪টি এসি চেয়ার ও ৩টি কেবিন। আর উদয়ন এক্সপ্রেসে শুধু ৪০টি চেয়ার রয়েছে। সিলেট-আখাউড়া, সিলেট-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ৬টি লোকাল ট্রেনের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে পাঁচটি। সবশেষ বন্ধ হয়েছে সুরমা মেইলের একটি ট্রেন । বর্তমানে চালু থাকা আরেকটি সুরমা মেইল চলছে এক সপ্তাহ পর পর। আর ডেমু ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে বহু বছর আগে।
অভিযোগ রয়েছে, শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে ২৬০টি টিকিট থাকলেও যার বেশিরভাগই চলে যায় কালোবাজারির হাতে। রাত ১২টার পরই নামে-বেনামে টিকিট সংগ্রহ করে সিন্ডিকেট চক্র। সকাল থেকেই দাম বাড়িয়ে সাধারণ যাত্রীদের কাছে এসব টিকিট বিক্রি করে চক্রটি।
সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, ‘‘কোনভাবে টিকিটের সিন্ডিকেট থামানো যাচ্ছে না। ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতে টিকিটের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যারা সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত, তারা খুব সহজেই টিকিট পেয়ে যায়। বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ঢাকাগামী যাত্রীদের। বেশির ভাগ মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করেন। সময় মত টিকিট না পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে’। টিকিটের বরাদ্দ বাড়ানের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানান সাধারণ যাত্রীরা।