ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার নতুন টমটম ভাড়া নির্ধারণ, ২০ জুলাই থেকে কার্যকর Logo শায়েস্তাগঞ্জে গাঁজা সেবনের দায়ে যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড Logo শায়েস্তাগঞ্জে ট্রাকে ৯৬ বোতল ইসকফ সিরাপসহ আটক ২ Logo শায়েস্তাগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরীর ৪২ বছর পূর্তি উদযাপন Logo হুইপ জি কে গউছের প্রচেষ্টায় শায়েস্তাগঞ্জে ১০১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনে অনুমোদন Logo হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ নিহত ৩ Logo শায়েস্তাগঞ্জ নূরপুর ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগ Logo এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন Logo চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকা গিয়ে নিখোঁজ বাহুবল সাটিয়াজুরী রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে যুবকের মরদেহ উদ্ধার Logo খোয়াই নদীর ভাঙনের নেপথ্যে ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলন’, দুর্ভোগে ৩০ গ্রামের মানুষ

চাঁদপুরে বই খুলে পরীক্ষা, দুই কেন্দ্রে সচিবসহ ৫ জন প্রত্যাহার

চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা বই খুলে এইচএসসি পরীক্ষার দেওয়ার অভিযোগে দায়িত্বরত দুই কেন্দ্র সচিবসহ পাঁচজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন : পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল বাশার ও নিন্দুপুর মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান।

গত সোমবার কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) চিঠির আলোকে এই ব্যবস্থা নেয় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইউএনও।

এ ছাড়া একই অভিযোগে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার সোহেল রানাসহ দায়িত্বরত দুই শিক্ষককেও প্রত্যাহার করা হয়। তবে এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জানা যায়, এবারের এইচএসসির বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার দিন কচুয়ার সাবেক সাংসদের নামে প্রতিষ্ঠিত নিন্দুপুর মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের একটি কক্ষে পরীক্ষার্থীরা কেউ বই খুলে, কেউবা বাহিরে থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করে, আবার কেউ একজন অন্যজনের খাতা দেখে পরীক্ষা দেয়। এ ধরনের কার্যক্রমের ভিডিও গোপনে ধারন করে ওই কেন্দ্রে এক ব্যক্তি। ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

ওই দিন ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন কচুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল রানা। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর উপস্থিতিতে ওই দিনসহ প্রতিদিনই এভাবে ওপেন বই দেখে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে আসছে। প্রতিদিন এই সুযোগ পেতে কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে মোটা অঙ্কের টাকা প্রদান করা হতো। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রুস্তম আলী কলেজের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, কোন কক্ষে কী হয়েছে, সেটা আমি বলতে পারছি না। তবে এ ঘটনায় প্রশাসন দুই কেন্দ্রের সচিবকে পরিবর্তন করে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নতুন দুজনকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাঁরা হলেন, পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন ও নিন্দুপুর মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

ওই এলাকার বাসিন্দা ইকবাল আজিজ বলেন, এভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের ছেলে-মেয়েদের নকলের সুযোগ করে দিয়ে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করা হচ্ছে।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এহসান মুরাদ বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকেও একটি তদন্ত টিম আসবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:০৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪
২৩৯ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরে বই খুলে পরীক্ষা, দুই কেন্দ্রে সচিবসহ ৫ জন প্রত্যাহার

আপডেট সময় ০২:০৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা বই খুলে এইচএসসি পরীক্ষার দেওয়ার অভিযোগে দায়িত্বরত দুই কেন্দ্র সচিবসহ পাঁচজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন : পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল বাশার ও নিন্দুপুর মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান।

গত সোমবার কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) চিঠির আলোকে এই ব্যবস্থা নেয় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইউএনও।

এ ছাড়া একই অভিযোগে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার সোহেল রানাসহ দায়িত্বরত দুই শিক্ষককেও প্রত্যাহার করা হয়। তবে এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জানা যায়, এবারের এইচএসসির বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার দিন কচুয়ার সাবেক সাংসদের নামে প্রতিষ্ঠিত নিন্দুপুর মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের একটি কক্ষে পরীক্ষার্থীরা কেউ বই খুলে, কেউবা বাহিরে থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করে, আবার কেউ একজন অন্যজনের খাতা দেখে পরীক্ষা দেয়। এ ধরনের কার্যক্রমের ভিডিও গোপনে ধারন করে ওই কেন্দ্রে এক ব্যক্তি। ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

ওই দিন ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন কচুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল রানা। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর উপস্থিতিতে ওই দিনসহ প্রতিদিনই এভাবে ওপেন বই দেখে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে আসছে। প্রতিদিন এই সুযোগ পেতে কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে মোটা অঙ্কের টাকা প্রদান করা হতো। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রুস্তম আলী কলেজের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, কোন কক্ষে কী হয়েছে, সেটা আমি বলতে পারছি না। তবে এ ঘটনায় প্রশাসন দুই কেন্দ্রের সচিবকে পরিবর্তন করে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নতুন দুজনকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাঁরা হলেন, পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন ও নিন্দুপুর মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

ওই এলাকার বাসিন্দা ইকবাল আজিজ বলেন, এভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের ছেলে-মেয়েদের নকলের সুযোগ করে দিয়ে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করা হচ্ছে।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এহসান মুরাদ বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকেও একটি তদন্ত টিম আসবে।