ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo চুনারুঘাটে কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গরু দিয়ে জমি চাষ Logo চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩২ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১২ চিকিৎসক, Logo হবিগঞ্জে চুনারুঘাটে ৬১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ Logo ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত Logo সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ গাজিউর রহমানের দাফন সম্পন্ন Logo নাব্য সংকটে সুতাং নদী এখন মরা খাল শিল্পবর্জ্যের দূষণে বিষাক্ত পানি Logo সৌদি আরবে প্রাইভেট কারের চাপায় শায়েস্তাগঞ্জের যুবক নিহত, পরিবারে মাতম Logo ‘অভাব তো বয়স বোঝে না, পেট তো খাবার চায়’ Logo আজমিরীগঞ্জে ২১ ঘণ্টা পর নদীতে ভাসল নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ Logo শায়েস্তাগঞ্জে জয়ন্তিকা ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, যাত্রীদের দুর্ভোগ

মাধবপুর পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের অন্তত চারটি গ্রাম আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া ঢলে ভান্ডারুয়া, জামালপুর, লৌহাদ, এক্তিয়ারপুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ পানির নিচে চলে যায়। এতে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে সিমনা ছড়ার একটি অংশ ভান্ডারুয়া এলাকায় ভেঙে যায়। ফলে রাতারাতি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। গ্রামীণ সড়ক, ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভান্ডারুয়া গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ূন কবির বলেন, রাতের মধ্যে হঠাৎ করে পানি বেড়ে যায়। অনেক পুকুর ভেসে গেছে, মাছ বের হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
জামালপুর গ্রামের গৃহবধূ রোকেয়া বেগম বলেন, ঘরের চারপাশে পানি। চুলা ডুবে যাওয়ায় সকাল-বিকাল রান্না করতে পারিনি। অনেকেই শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষক আব্দুল কাদির জানান, আমার আউশ ধান, শাকসবজি ও গবাদিপশুর খাদ্য পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েক মাসের পরিশ্রম এক রাতেই শেষ হয়ে গেল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ি ঢলের পানিতে কয়েকশ একর আউশ ধান, মৌসুমি শাক-সবজি ও গবাদিপশুর খাদ্য নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি অনেক পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মৎস্যচাষিরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বেশ কয়েকটি কাঁচা ও মাটির তৈরি বসতঘর আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ হোসেন চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন।

ইউপি সদস্য আব্দুল মন্নাফ বলেন, সিমনা ছড়ার অংশ ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রয়েছে এবং রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নূর মামুন বলেন, পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার আউশ ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
৭৮ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুর পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট সময় ০১:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের অন্তত চারটি গ্রাম আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া ঢলে ভান্ডারুয়া, জামালপুর, লৌহাদ, এক্তিয়ারপুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ পানির নিচে চলে যায়। এতে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে সিমনা ছড়ার একটি অংশ ভান্ডারুয়া এলাকায় ভেঙে যায়। ফলে রাতারাতি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। গ্রামীণ সড়ক, ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভান্ডারুয়া গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ূন কবির বলেন, রাতের মধ্যে হঠাৎ করে পানি বেড়ে যায়। অনেক পুকুর ভেসে গেছে, মাছ বের হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
জামালপুর গ্রামের গৃহবধূ রোকেয়া বেগম বলেন, ঘরের চারপাশে পানি। চুলা ডুবে যাওয়ায় সকাল-বিকাল রান্না করতে পারিনি। অনেকেই শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষক আব্দুল কাদির জানান, আমার আউশ ধান, শাকসবজি ও গবাদিপশুর খাদ্য পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েক মাসের পরিশ্রম এক রাতেই শেষ হয়ে গেল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ি ঢলের পানিতে কয়েকশ একর আউশ ধান, মৌসুমি শাক-সবজি ও গবাদিপশুর খাদ্য নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি অনেক পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মৎস্যচাষিরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বেশ কয়েকটি কাঁচা ও মাটির তৈরি বসতঘর আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ হোসেন চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন।

ইউপি সদস্য আব্দুল মন্নাফ বলেন, সিমনা ছড়ার অংশ ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রয়েছে এবং রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নূর মামুন বলেন, পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার আউশ ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।