ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন Logo বৈশাখী মেলা ঘিরে মাটির জিনিসপত্র তৈরীতে ব্যস্ত শায়েস্তাগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা Logo খোয়াই নদীতে অবাধে মাটি-বালু উত্তোলন ॥ ভাঙন আতঙ্ক Logo হবিগঞ্জে টানা বর্ষণে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি Logo বানিয়াচংয়ে ২২০০ বিঘা জমির ধান পানির নিচে Logo হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর ব্রীজ থেকে পানিতে পরে নারীর মৃত্যু Logo শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের বেহালদশা Logo হবিগঞ্জে দুই বোনের বিষপানে এক বোনের মৃত্যু Logo তেলিয়াপাড়া দিবসে হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত‘মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিব বন্দি হয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন’ Logo শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে বাড়ছে মোবাইল চুরির ঘটনা

প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা

স্পোর্টস ডেস্ক

এই শতাব্দীতে আইসিসি ইভেন্টে মোট ১০বার সেমিফাইনাল খেললেও কখনোই ফাইনালে পা রাখতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিবারই মাথা নিচু করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে। প্রোটিয়াদের নামের সঙ্গে লেপ্টে গেছে ‘চোকার্স’ তকমা। যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল এবার কি পারবে প্রোটিয়ারা। নাকি লেখা হবে আফগান রূপকথা। ম্যাচের আগে অবশ্য প্রোটিয়া কোচ রব ওয়াল্টার, আগের প্রোটিয়াদের সঙ্গে এই প্রোটিয়া দলকে মেলাতে বারণ করেছিলেন। তবে সে সময় বিশ্বাস হয়নি তার সেই কথা।

প্রোটিয়াদের সাবেক কিংবদন্তি গ্রেইম স্মিথ তো টুইটও করে বসেছেন। সেখানে দ্বিধা নিয়ে জানতে চেয়েছেন ফাইনাল দেখতে বিমানের টিকিট কাটবেন কিনা তিনি। এখন অবশ্য সেই টিকিটটা কাটতে পারেন স্মিথ। কেননা, ওয়াল্টারের এই দল হতাশ করেনি এবার। ঘুচিয়ে দিয়েছে চোকার্স তকমা। আফগানদের ৫৬ রানে অলআউট করে সতর্ক হয়ে ম্যাচে জয় তুলেছে ৬৭ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখে।

প্রোটিয়াদের জয়ের রাস্তাটা অবশ্য সহজ করে দিয়েছেন আফগান ব্যাটাররা। পুরো আসরজুড়ে দারুণ ক্রিকেট খেলা আফগানরা সেমিতে উঠেই দেখল ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়। কৃতিত্বটা অবশ্য কম নয় প্রোটিয়া বোলারদের। তাদের ক্ষুরধার বোলিংয়েই যে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে আফগান ব্যাটারদের। ২০ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ২৮ রানে ৬ উইকেট। পাওয়ারপ্লেতেই পাওয়ার শেষ আফগানদের। এরপর সেই ইনিংসটা কতদূর যাবে তা অনুমেয়ই ছিল। তবে সে পর্যন্তও সেই অনুমান করা সংগ্রহটাও দাঁড় করাতে পারেনি আফগনারা। মাত্র ১১.৫ ওভারে ৫৬ রানেই অলআউট আফগানিস্তান।

আফগানদের বোলিং আক্রমণ নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা। তাছাড়া লড়াই করার মানসিকতা আছে তাদের। তবে সেটার জন্যও স্কোরবোর্ডে একটা চ্যালেঞ্জিং পুঁজি থাকা চায় অন্তত। আজ সেই পুঁজিটাও দাঁড় করাতে পারেনি আফগানরা। তাই ম্যাচটা তারা হেরে গিয়েছিল প্রথম ইনিংসেই। এরপর কেবল দেখার ছিল কয় ওভার পর্যন্ত ম্যাচটা টেনে নিয়ে যেতে পারে আফগানরা। কিংবা কয়টি উইকেট তুলতে পারে তারা।

শুরুটা নেহায়েত মন্দ করেনি রশিদ খানের দল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আগ্রাসী ওপেনার কুইন্টন ডি ককের স্টাম্প ভেঙে দেন আসরের অন্যতম সফল বোলার ফজলহক ফারুকী। এরপর পরের ওভারে নাভিন-উল-হকও পেতে পারতেন উইকেটের দেখা। তাতে বড় বিপদে পড়তে পারত প্রোটিয়ারা। তবে স্টাম্পের পেছনে রহমানুল্লাহ গুরবাজ বুঝতে পারেননি ব্যাটে লেগেছিল বলটা। যার কারণে রিভিউও নেয়নি তারা। পরে অবশ্য ব্যাটের স্পাইক দেখে আফসোসই করতে হয়েছে তাদের। ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে যায় ওখানেই।

এরপর ম্যাচের বাকি পথে আর ভুল করেনি রিজা হেন্ড্রিক্স ও এইডেন মার্করাম জটি। দু’জনের ব্যাটে ৯ উইকেটের বড় জয় তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ জিতেছে ৬৭ বল হাতে রেখে। আর তাতেই প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বপ্নের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৫৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪
১৫৬ বার পড়া হয়েছে

প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা

আপডেট সময় ১১:৫৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪

এই শতাব্দীতে আইসিসি ইভেন্টে মোট ১০বার সেমিফাইনাল খেললেও কখনোই ফাইনালে পা রাখতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিবারই মাথা নিচু করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে। প্রোটিয়াদের নামের সঙ্গে লেপ্টে গেছে ‘চোকার্স’ তকমা। যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল এবার কি পারবে প্রোটিয়ারা। নাকি লেখা হবে আফগান রূপকথা। ম্যাচের আগে অবশ্য প্রোটিয়া কোচ রব ওয়াল্টার, আগের প্রোটিয়াদের সঙ্গে এই প্রোটিয়া দলকে মেলাতে বারণ করেছিলেন। তবে সে সময় বিশ্বাস হয়নি তার সেই কথা।

প্রোটিয়াদের সাবেক কিংবদন্তি গ্রেইম স্মিথ তো টুইটও করে বসেছেন। সেখানে দ্বিধা নিয়ে জানতে চেয়েছেন ফাইনাল দেখতে বিমানের টিকিট কাটবেন কিনা তিনি। এখন অবশ্য সেই টিকিটটা কাটতে পারেন স্মিথ। কেননা, ওয়াল্টারের এই দল হতাশ করেনি এবার। ঘুচিয়ে দিয়েছে চোকার্স তকমা। আফগানদের ৫৬ রানে অলআউট করে সতর্ক হয়ে ম্যাচে জয় তুলেছে ৬৭ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখে।

প্রোটিয়াদের জয়ের রাস্তাটা অবশ্য সহজ করে দিয়েছেন আফগান ব্যাটাররা। পুরো আসরজুড়ে দারুণ ক্রিকেট খেলা আফগানরা সেমিতে উঠেই দেখল ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়। কৃতিত্বটা অবশ্য কম নয় প্রোটিয়া বোলারদের। তাদের ক্ষুরধার বোলিংয়েই যে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে আফগান ব্যাটারদের। ২০ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ২৮ রানে ৬ উইকেট। পাওয়ারপ্লেতেই পাওয়ার শেষ আফগানদের। এরপর সেই ইনিংসটা কতদূর যাবে তা অনুমেয়ই ছিল। তবে সে পর্যন্তও সেই অনুমান করা সংগ্রহটাও দাঁড় করাতে পারেনি আফগনারা। মাত্র ১১.৫ ওভারে ৫৬ রানেই অলআউট আফগানিস্তান।

আফগানদের বোলিং আক্রমণ নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা। তাছাড়া লড়াই করার মানসিকতা আছে তাদের। তবে সেটার জন্যও স্কোরবোর্ডে একটা চ্যালেঞ্জিং পুঁজি থাকা চায় অন্তত। আজ সেই পুঁজিটাও দাঁড় করাতে পারেনি আফগানরা। তাই ম্যাচটা তারা হেরে গিয়েছিল প্রথম ইনিংসেই। এরপর কেবল দেখার ছিল কয় ওভার পর্যন্ত ম্যাচটা টেনে নিয়ে যেতে পারে আফগানরা। কিংবা কয়টি উইকেট তুলতে পারে তারা।

শুরুটা নেহায়েত মন্দ করেনি রশিদ খানের দল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আগ্রাসী ওপেনার কুইন্টন ডি ককের স্টাম্প ভেঙে দেন আসরের অন্যতম সফল বোলার ফজলহক ফারুকী। এরপর পরের ওভারে নাভিন-উল-হকও পেতে পারতেন উইকেটের দেখা। তাতে বড় বিপদে পড়তে পারত প্রোটিয়ারা। তবে স্টাম্পের পেছনে রহমানুল্লাহ গুরবাজ বুঝতে পারেননি ব্যাটে লেগেছিল বলটা। যার কারণে রিভিউও নেয়নি তারা। পরে অবশ্য ব্যাটের স্পাইক দেখে আফসোসই করতে হয়েছে তাদের। ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে যায় ওখানেই।

এরপর ম্যাচের বাকি পথে আর ভুল করেনি রিজা হেন্ড্রিক্স ও এইডেন মার্করাম জটি। দু’জনের ব্যাটে ৯ উইকেটের বড় জয় তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ জিতেছে ৬৭ বল হাতে রেখে। আর তাতেই প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বপ্নের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা।